গর্ভকালীন সময়ে ভিটামিন সেবন:

গভর্ধারণ মহিলাদের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। গর্ভধারণের পর পরই সচেতন মায়েরা কিংবা তাদের অবিভাবকগণ গাইনী চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়ে থাকেন। মল-মূত্র, রক্তের রুটিন চেকআপের পাশাপাশি বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ আলট্রাসনোগ্রাম সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টেষ্ট করিয়ে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন।

 

তবে ঔষধের ক্ষতিকর সাইড-ইফেক্ট থেকে বাঁচার জন্য প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে গর্ভবতীদেরকে ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, আয়রণ, ফলিক এসিড ইত্যাদি খাওয়ানো হয়ে থাকে। কেননা গাইনী চিকিৎসকগণ এগুলোকে গর্ভবতীদের জন্য নিরাপদ বলে মনে করে থাকেন। ঐ সকল ঔষধ বানর, গিনিপিগ কিংবা খরগোসের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবিষ্কৃত বিধায় এসব ঔষধের কারণে গর্ভবতী ও গর্ভস্থ শিশুর কি কি ক্ষতি হয়, তা এখনও রহস্যজনক। এ পর্যন্ত জানা তথ্য অনুযায়ী. ক্যালশিয়াম- কিডনীতে পাথর হওয়ার একটি বিশেষ কারণ। অধিক মাত্রায় আয়রণ- মহিলাদের স্তন ক্যানসারের একটি অন্যতম কারণ। প্রকৃতপক্ষে এসব ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, আয়রণ ইত্যাদি যেহেতু আমাদের দৈনন্দিন খাবারেই যথেষ্ট পরিমাণে থাকে, কাজেই ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ইত্যাদি ঔষধ আকারে খেলে তাতে শরীরে এসব উপাদানের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর একারণেই গর্ভবতী মায়েদের পেটের পানির (placenta fluid) পরিমাণ কমে যায়, ঠিকমতো প্রসব ব্যথা উঠতে চায় না। ফলে আমদের দেশের শহরগুলোতে সিজারিয়ান নামক অপারেশনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এসব ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, আয়রণ, ফলিক এসিড ইত্যাদি খাওয়ার ফলে তাৎক্ষণিক যে ক্ষতিটি দৃশ্যমান হয়, তাহলো অধিকাংশ মহিলাই ভীষণ রকমে মোটা হয়ে যান। বর্তমান সকল চিকিৎসা বিজ্ঞানীই সহমত হবেন- ক্যানসার, ডায়াবেটিস,কিডনী রোগ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, পক্ষাঘাত, হার্ট এটাক, হাঁপানী, জয়েন্টে ব্যথা ইত্যাদি রোগে মোটা মানুষরা অধিক আক্রান্ত হচ্ছেন।

 

 

পক্ষান্তরে, হোমিও চিকিৎসকগণ গর্ভকালীন সময়ে রোগীনিকে মাছ-গোশত-শাক-সবজি-ফল-মূল ইত্যাদি স্বাভাবিক খাবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে গর্ভবস্থায় যদি কেউ শরীরিক দুর্বলতা, রক্তশূণ্যতা দেখা দিলে কিংবা আর্থিক অনটনের কারণে প্রয়োজনীয় পুষ্ঠিকর খাবার খেতে অপারগ হলে অথবা শারীরিক ত্রুটি জনিত কারণে খাবার থেকে যথাযথভাবে দেহে পুষ্টি শোষিত করতে ব্যার্থ হলে বিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকগণ 
1 Calcarea phos 6X
2 Ferrum phos 6X
3 Kali phos 6X
ঔষধসমূহ কিছুদিন খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ফলে শরীর নিজেই তার প্রয়োজনীয় পুষ্ঠিকর উপাদানসমূহ দৈনন্দিন খাবার থেকেই গ্রহন করার যোগ্যতা লাভ করতে সক্ষম হয়।

গর্ভকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধসমূহ 
গর্ভকালীন সময়ে উল্লেখিত ঔষধসমূহ সেবনে গভর্স্থ সন্তানের হাড়, দাঁত, নাক, চোখ, মস্তিষ্ক ইত্যাদির গঠন খুব ভালো এবং নিখুঁত করতে সাহায্য করবে পাশাপাশি আপনার সন্তান ঠোট কাটা, গুজা, পিঠ বাঁকা, হাড় বাঁকা, বেটে, শারিরিক কিংবা মানসিক প্রতিবন্ধি, হৃদরোগ, কিডনীরোগ, চর্মরোগ প্রভৃতি দোষ নিয়ে জন্মনোর হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। বংশগত শারীরিক কিংবা মানসিক প্রতিবন্দ্বি শিশু জন্মের ইতিহাস পাওয়া গেলে গর্ভকালীন সময় এই ঔষধগুলো অত্যাবশ্যকীয়। তবে অবশ্যই বিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ওষধ সেবন করা বাঞ্ঝনীয়। এই হোমিও ঔষধগুলো গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের চমৎকার যত্ন নিয়ে থাকে এমনকি গর্ভবতী মায়ের সাধারণ সমস্যা যেমন: বমি বমি ভাব, জ্বর, মাথাব্যথা, খিচুঁনি, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানী, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ ভাল হয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। আর যাদের এসকল রোগ নাই, তারাও এই ঔষধ তিনটি সেবনে যতেষ্ট উপকৃত হবেন। এছাড়া Pulsalilla গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি আদর্শ ঔষধ। গর্ভস্থ শিশুর পজিশন ঠিক করার মত যাদুকরি ক্ষমতা মহান আল্লাহ্‌ পাক একে দান করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি গর্ভস্থ শিশুর চারদিকে পানির (placenta fluid) পরিমাণ সঠিক মাত্রায় বজায় রাখে এবং পানির পরিমাণ কমতে দেয় না, ফলে অধিকাংশ শিশু সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়াই স্বাভাবিক পথে জন্ম নিয়ে ‍থাকে। এমনকি যাদের কোমরের বা তলপেটের গঠন ভালো নয় বলে ডাক্তাররা সিজার করতে বলে, তাদেরও দেখেছি শিশু এবং মায়ের কোন ক্ষতি ছাড়াই নরমাল ডেলিভারি হয়ে যায়।এছাড়া অতীতে যাদের সিজার হয়েছে, তারাও Pulsatilla লক্ষণভেদে Caulo T কিংবা উপযুক্ত হোমিও ঔষধ সেবনে নিজের এবং শিশুর কোন ক্ষতি ছাড়াই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তানের চাঁদমুখ দেখার সৗভাগ্য লাভ করতে পারবেন।

কলোফাইলাম গর্ভপাতেরও(abortion) একটি উত্তম ঔষধ, যাতে ভুয়া প্রসব ব্যথা দেখা দিলে এটি প্রয়োগ করতে হয়। যাদের প্রতিবারই (তৃতীয় ‍মাস, পঞ্চম মাস ইত্যাদি) একটি নির্দিষ্ট সময়ে গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়, তারা সেই নির্দিষ্ট সময়ের একমাস পূর্ব থেকেই অগ্রিম এই ঔষধটি খাওয়া শুরু করতে পারেন। ডেলিভারি বা সুপ্রসবের জন্য Pulsatilla ৩০ সপ্তম মাস হইতে প্রত্যহ সকালে দেওয়া যেতে পারে।

গর্ভবতী মায়ের খাবার ও পুষ্টি

গর্ভের সন্তান পুষ্টি পায় তার মায়ের কাছ থেকে। অনাগত সন্তান আর মায়ের ভবিষ্যৎ সুস্থতাও অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের খাবার কেমন তার ওপর নির্ভর করে। অনেক মা দ্বিধায় ভোগেন কী খাওয়া উচিত, কী উচিত নয়। অনেকে উদ্বিগ্ন থাকেন বাড়তি ওজন নিয়েও।বহু মানুষের ধারণা, মা যদি বেশি খাবার খায় তাহলে গর্ভের সন্তান আকারে বড় হবে। তখন স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্ভব হবে না। তাই গর্ভবতী মাকে কম খেতে দেওয়া হয়। যা মা ও শিশুর জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আবার অনেকের মতে, একজন গর্ভবতী মাকে দুজনের খাবার খাওয়া উচিত। এটাও ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের সঙ্গে মুটিয়ে যাওয়ার সম্পর্ক আছে। অতিরিক্ত ওজনের মায়েদের ক্ষেত্রে মৃত সন্তান অথবা ছোট শিশুর জন্মদানের ঘটনা বেশি। তবে খাবার যেমনই হোক না কেন, সেটা হতে হবে পুষ্টিকর। এ জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবারে খাদ্যের সব কয়টি উপাদানের উপস্থিতি থাকতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিটি নারীর দৈনিক ২১শ’ ৬০ কিলো- ক্যালরি খাদ্যের প্রয়োজন হলেও একজন গর্ভবতীর প্রয়োজন হয় তার চেয়ে ৩৫০ কিলো ক্যালরি খাদ্যের। তা না হলে শিশু অপুষ্টিতে ভুগে ও কম ওজন নিয়ে শিশু জন্মায়। গর্ভবতী মায়ের খাবার এবং কোন খাবার গর্ভের সন্তান এবং মায়ের জন্য প্রয়োজন তা নিচে আলোচনা করা হলো-

প্রোটিন ও আমিষ :
প্রোটিন শরীরের গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে৷ গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রোটিনে চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি হয়৷ আমিষ গর্ভের শিশুর শরীরের নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মাকে দৈনিক অন্তত ৬০ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। প্রতিদিনের আমিষের অভাব পূরণে ২ থেকে ৩ টুকরো মাছ, ৩ থেকে ৪ টুকরো মাংস ও কমপক্ষে একটি ডিম খেতে হবে। এছাড়া নিয়ম করে প্রতিদিন একগ্লাস উষ্ণ গরম দুধ পান করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় trimester-এ প্রতিদিন যথাক্রমে ১, ৯ ও ৩১ গ্রাম অতিরিক্ত প্রোটিন প্রয়োজন হয়।তবে খেয়াল রাখতে হবে কাঁচা বা আধা সিদ্ধ মাংস খাওয়া যাবে না এবং ডিম ভাল করে সিদ্ধ করে বা ভেজে খেতে হবে।আর দুধ ভাল মতো ফুটিয়ে পান করা উচিত।

ক্যালসিয়াম:
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি৷ গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য অনেক ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়৷ যদিও গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় তুলনামূলকভাবে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়, তবুও শেষের ৩ মাস চাহিদাটা সবচেয়েতে বেশি থাকে। WHO এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং বিশেষ করে শেষ ৩ মাসের প্রতিদিন ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। দুধ, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছ, বাদাম, কমলালেবু, শুকনো ফল, সবুজ পাতাসহ শাক-সবজি, ফুলকপি ও তৈলবীজ খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে৷

আয়রন :
আমাদের দেশের বেশির ভাগ গর্ভবতী মহিলাই রক্তশূন্যতায় ভুগে থাকেন৷ গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে যায়৷ আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন ও এনার্জি তৈরিতে সাহায্য করে, গর্ভস্থ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্র বিকাশ করে। Institute Of Medicine (IOM) এর মতে, গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।এই সময় যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন গ্রহণ করা না যায় তাহলে এনেমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে৷ তাই রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করার জন্য মাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে৷ গরু কিংবা খাসির কলিজা, বাচ্চা মুরগি, ডিম, মাছ, কলা, কচুশাক, পালং শাক এ সবের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে৷

ফলিক এসিড :
কোষ বিভাজনে ফলিক এ্যাসিডের বড় ধরণের ভূমিকা থাকার কারণে গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ফলিক এ্যাসিড দরকার৷ ফলিক এ্যাসিড শিশুর মেরুদন্ড গঠনে সহায়তা করে৷ কোন কারণে ফলিক এ্যাসিডের অভাব হলে শিশুর মেরুদণ্ডে জণ্মগত ত্রুটি থাকতে পারে৷ গর্ভবতী মায়ের শরীরে ফলিক এসিডের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ না হলে গর্ভস্থ শিশু সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না এবং জন্মের সময় শিশুর ওজন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। খেয়াল রাখতে হবে যেন গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহ ফলিক এসিডের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হয়। কারণ বিশেষ করে সেই সময়টিতে গর্ভবতী মায়ের শরীরে ফলিক এসিডের অভাব হলে গর্ভস্থভশিশুর উপর এর প্রভাব পড়ে। IMO এর মতে, গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ৬০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। ফলিক এসিডযুক্ত খাবারের মাঝে রয়েছে ব্রোকলি, ভাত, মসুর ডাল, কমলার জুস, পালং শাক ও 
পাউরুটি।

ভিটামিন-এ:
হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহের গঠনের জন্য ভিটামিন এ প্রয়োজন৷ গর্ভস্থ শিশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বেড়ে ওঠা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর থাকা, দৃষ্টিশক্তি সঠিকভাবে কাজ করা এবং সার্বিকভাবে বেড়ে ওঠায় ‘ভিটামিন এ’ প্রয়োজন। গর্ভে থাকা শিশু যেহেতু সব পুষ্টি মায়ের মাধ্যমেই পায়, তাই গর্ভবতী মায়ের শরীরে ভিটামিন এ-এর এই চাহিদা পূরণ হওয়া দরকার। WHO-এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ৮০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে খাবারের তালিকায় থাকা চাই মুরগির কলিজা, ডিম, গাজর, আম, গাঢ় কমলা ও হলুদ রঙের ফল এবং গাঢ় সবুজ রঙের শাক-সবজি।

ভিটামিন বি-১,বি-২ ও নায়াসিন:
ভিটামিন-বি পরিবারভুক্ত ৬টি ভিটামিনের মধ্যে গর্ভাবস্থায় চাহিদা বেড়ে যায় ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন, বি-২ বা রিবোফ্লাবিন ও বি-৩ বা নায়াসিনের। বি-ভিটামিন ডায়জেস্টিভ সিস্টেমকে চালু রাখে। ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চামড়ার শুষ্কভাব কমিয়ে সতেজ রাখে।গর্ভাবস্থায় যেহেতু হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেট, কোমর, গলা-এসব জায়গার চামড়ার রং পরিবর্তন হয়, পেটের চামড়া স্ফিত হওয়ায় টান লাগে, তাই বি-ভিটামিন এই সময় চামড়ার দেখভালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘রেড মিট’, কলিজা, ডিম, কলা, কিডনি, বিনস, পালংশাক, কাঠবাদাম ও দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

ভিটামিন-সি:
ভিটামিন সি এর সাহায্যে শরীর সহজেই শাকসবজি থেকে আয়রন শোষণ করে নিতে পারে, রক্তশূন্যতার সম্ভাবনা কমায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।এ জন্য ডাক্তার বা পুষ্টিবিদেরা আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরপরই লেবু, কমলা, বাতাবিলেবু বা আমলকী খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় পাওয়া যাচ্ছে ভ্রূণের মানসিক বৃদ্ধিতে ভিটামিন-সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন-সি ফলিক অ্যাসিডকে কার্যকর করে তোলার চালিকাশক্তি।গর্ভের শিশুর মাংসপেশি ও হাড় গঠনের কোলাজেন প্রোটিনের প্রয়োজন। ভিটামিন-সি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করে।IOM এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে ৮৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন – আমলকী, পেয়ারা, কমলা লেবু, বাতাবি লেবু, সবুজ শাক-সবজি, টমেটো এবং আলু খেতে হবে৷ মনে রাখবেন বেশিক্ষণ রান্না করলে ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়৷

ভিটামিন ই:
ভিটামিন ই রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে৷ আপেল, বাদাম, গাজর, বাঁধাকপি, ডিম, অলিভ তেল ও ও সূর্যমুখি বীজে ভিটামিন ই পাওয়া যায়৷

জিংক:
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস জিংক এবং ফলিক এ্যাসিডের ভূমিকা অপরিসীম৷ জিংক গর্ভপাত প্রতিরোধ করে এবং শিশুর ওজন বাড়ায়৷ জিংক শরীরের প্রত্যেকটি অংশের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্ষমতা সক্রিয় রাখে এবং টিস্যু ও কোষ গঠনে ভূমিকা রাখে। এমনকি গর্ভে থাকা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেড়ে ওঠায় জিংক গুরুত্বপূর্ণ। WHO এর মতে, গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাস ১১ মিলিগ্রাম, দ্বিতীয় ৩ মাস ১৪ মিলিগ্রাম ও শেষের ৩ মাস ২০ মিলিগ্রাম করে জিংক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। এই জিংক পাওয়া যাবে প্রানিজ প্রোটিনে৷ তাছাড়াও চিনে বাদাম, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, গম এসবে প্রচুর পরিমাণ জিন্ক থাকে যা আপনার গর্ভাবস্থায় চাহিদা পূরণে সক্ষম৷

আয়োডিন :
গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব হলে গর্ভে থাকা সময় থেকে শুরু করে জন্মের ৩ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর বুদ্ধির বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও আয়োডিনের অভাবে গর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনাও থাকে। এটি থাইরয়েডকেও সুস্থ রাখে। তাই গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম আয়োডিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে WHO। আয়োডিন যুক্ত খাবারের মাঝে আছে আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, পনির, টক দই, গরুর দুধ ইত্যাদি।

Docosahexaenoic Acid (DHA):
DHA হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডগুলোর মধ্যে একটি। এটি গর্ভে থাকা শিশুর দৃষ্টিশক্তি ও রক্ত কোষ বিকাশের সহায়ক। বিশেষ করে শেষের ৩ মাস DHA গর্ভে থাকা শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে কাজ করে। তাই গর্ভবতী মায়ের DHA সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া বেশ প্রয়োজন। একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম এমন খাবার খাওয়া দরকার যাতে DHA আছে। সামুদ্রিক মাছ ও ডিমে পাওয়া যাবে DHA।

পটাশিয়াম :
পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে ফ্লুইডের সঠিক ব্যালেন্স বজায় রাখে হার্টবিট ও এনার্জি লেভেলকে স্বাভাবিক রাখে। পটাশিয়ামযুক্ত খাবারগুলো হলো মিষ্টি আলু, কিসমিস, ব্রোকলি, টক দই, মসুর ডাল, পালং শাক ও কমলার জুস।

ভিটামিন ট্যাবলেট:
গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিনের প্রয়োজন হয়৷ এই অতিরিক্ত ভিটামিনের চাহিদা খাবারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ 
অনুযায়ী ভিটামিন ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে৷

পানি:
রোজ প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। পানি শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। রক্তের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে পুষ্টি পৌঁছায়। এছাড়া পানি মূত্র থলির প্রদাহ ও অতিরিক্ত ঘাম রোধ করে। পানির সঙ্গে বিভিন্ন সুপ, টাটকা ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে।

গর্ভবতী মায়ের খাবার কেমন হওয়া উচিৎ :
এখানে আমরা উদাহরণসরূপ কিছু আদর্শ খাবার রুটিনের কথা বলব। তবে আপনার বয়স, শারীরিক অবস্থা, ওজন ইত্যাদি বিবেচনা করে ভাল ডায়েট সাজেশন অবশ্যই আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নেবেন।

সকালে – সকালে অনেক গর্ভবতী নারীরই বমি বমি ভাব হয় এবং খেতে ইচ্ছে করেনা। সেক্ষেত্রে ভারী খাবার না খেয়ে হালকা চা (গ্রিনটি)ও বিস্কিট খেয়ে নিতে পারেন। এর বেশ খানিকটা পরেই ২ টি রুটি ও সবজি খেতে পারেন। সাথে একটি ডিম সিদ্ধ করে খাওয়া ভালো। বেলা ১০ টা/ ১১ টায় ১ গ্লাস ননী ছাড়া দুধ বা ফল বা ফলের জুস ও বাদাম খেতে পারেন।

দুপুরে – দুপুরে ১ বাটি ভাতের সাথে মাছ বা মাংস, সবজির তরকারী, শাক, ডাল এবং তাজা ফল ও সবজির সালাদ। খাওয়ার শেষে খেতে পারেন দই।

রাতে – রাতের খাবার দুপুরের মতোই হবে। তবে শাক রাতে না খাওয়াই ভালো। বেশি করে সবজির তরকারী খেতে পারেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১ গ্লাস ননী মুক্ত দুধ পান করতে ভুলবেন না।

যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত চাপের মত সমস্যা আছে তারা ডাক্তারের দেয়া তালিকা অনুযায়ী খাবার খাবেন। ডায়েবেটিসের রোগীরা শর্করা ও মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে এবং ব্লাড প্রেশারের রুগীদের লবণ খেতে হবে কম করে।


পরিবারের সদস্যদের হবু মায়ের সুস্বাস্থ্য এবং সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পাঁচ মাস থেকে ভ্রূণের যথাযথ বৃদ্ধির জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার হওয়া চাই সুষম। সঙ্গে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং পর্যাপ্ত পানি যাতে থাকে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।

ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ব্যথা না উঠলে বা প্রসবব্যথা কম হলে ব্যাথা উঠার ঔষধ 
1 Pulsatilla:
জরায়ুর মুখ আংশিক খোলার পর ব্যথা একবার আসে আবার চলে যায়, কখনও কম কখনও বেশী হলে প্রযোজ্য। এটি প্রসব ব্যথাকে বাড়িয়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি প্রসব কাজ সমাধা করার ব্যাপারে একটি শ্রেষ্ঠ ঔষধ।
2 Secale Cor:
জরায়ুর মুখ খোলার পর ঘিনঘিনে ব্যাথা। ব্যাথার জোর কম হলে প্রযোজ্য।

জরায়ুর মুখ না খুললে বা শক্ত থাকলে :
1 Cimicifuga
প্রচণ্ড বেদনায় মুর্চ্ছার ভাব হলে।
2 Gelsimium
বেদনায় রোগী কাপতে থাকলে।
3 Belladona
ব্যাথা হঠাৎ আসে হঠাৎ ছেড়ে দেয়।
4 Caulo T
ব্যাথা স্থান পরিবতনশীল
5 Coffea
প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা থাকলে
6 Ipecac
বমি কিংবা বমি বমি ভাব হলে।
7 Chamomilla
রোগীনি গালাগালি করলে।
8 Kali Carb
অত্যাধিক কোমর বেদনা হলে।

মনে রাখবেন, নরমাল ডেলিভারির কষ্ট থাকে দুয়েক দিন, কিন্তু সিজারিয়ান অপারেশানের কষ্ট দুয়েক বছরেও যায় না। ক্ষেত্র বিশেষে সারা জীবনই মাসুল দিতে হয়।

 

ডা: আহমদ ইমতিয়াজ
ডি.এইচ.এম.এস (ঢাকা) ফার্মাসিস্ট ও হোমিওপ্যাথ 
বিস্‌মিল্লাহ্‌ হোমিও ফার্মেসী
৬৫ আর. কে. মিশন রোড, জজগলি, গোপীবাগ, ঢাকা-১২০৩ 
মোবাইল: ০১৯১৪৪৪০৪৩০ ই-মেইল a_imtiaj@yahoo.com