ব্যাথা
শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ কোন না কোন ব্যাথায় ভুগেন। হাসপাতাল বা ডাক্তার চেম্বারে যাওয়া লোকদের অন্যতম কারণ হলো ব্যাথা।

মাজা ব্যাথা
কোমর ধরে থাকা বা ব্যাথার কারণে যে সকল উপস্বর্গ দেখা দেয় তা মাজা ব্যাথা বলে।

 

 

মাজা ব্যাথার কারণ সমূহ :

 
১. পেশি, হাড়, জোড়া, লিগামেন্ট, ডিস্ক (দুই কশেরুকার মাঝখানে থাকে) ও স্নায়ুর রোগ বা ইনজুরি। 
২. বুক, পেট ও তল পেটের মধ্যকার বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যার জন্য মাজা ব্যাথা হয়। একে রেফার্ড পেইন বলে। 
৩. হারনিয়াটেড ডিস্ক নার্ভকে ইরিটেশন করে। ২০ বছরের উর্ধ্বে এক-তৃতীয়াংশ লোকের হারনিয়াটেড ডিস্ক থাকে। ৩% লোকের নার্ভ ইরিটেশনের জন্য ব্যাথা হয়। 
৪. পেশাগত কারণে দীর্ঘক্ষণ বসার ভঙ্গিমা ঠিকমত না হলে। 
৫. ছাত্রছাত্রীর চেয়ারে বসার ভঙ্গিমা ঠিকমত না হলে। 
৬. ড্রাইভিং করার সময় সঠিকভাবে না বসলে। 
৭. ওপর হয়ে শুয়ে বই পড়লে। 
৮. স্পোনডাইলোসিস। 
৯. স্পোনডাইলাইটিস। 
১০. স্পোনডাইলিসথেসিস। 
১১. স্পাইনাল ক্যানাল সরু হওয়া। 
১২. হাড় ও তরুণাস্থির প্রদাহ এবং ক্ষয়। 
১৩. হাড়ের ক্ষয় ও ভঙ্গুরতা। 
১৪. হাড় নরম ও বাঁকা হওয়া। 
১৫. আর্থ্রাইটিস। 
১৬. ফাইব্রোমায়ালজিয়া। 
১৭. হঠাৎ করে হাঁচি, কাশি দিয়েছেন বা প্রস্রাব-পায়খানার জন্য স্ট্রেইন করেছেন। 
১৮. সামনে ঝুঁকে বা পার্শ্বে কাত হয়ে কিছু তুলতে চেষ্টা করেছেন। 
১৯. হাড়ের ইনফেকশন। 
২০. ডিস্কাইটিস (ডিস্কের প্রদাহ)। 
২১. হাড় ও স্নায়ুর টিউমার। 
২২. যে কোন কারণে অতিরিক্ত চিন্তাগ্রস্ত হলে কোমর ব্যাথা হয়।

উপস্বর্গসমূহ
হঠাৎ ধরে বা জমে যায় (স্টিফনেস)- এই ধরনের ব্যাথা : ভারী ওজন তোলা বা অতিরিক্ত কাজের পর তীক্ষ্ণ ব্যাথা হয়ে থাকে।

ক্রোনিক বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাথা : অনেকক্ষণ বসা বা দাঁড়ানো অবস্থায় ব্যাথা হলে। কোমর থেকে নিতম্ব, উরু, লেগ ও পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত ব্যাথা বিস্তৃত হলে। পায়ে দুর্বলতা বা অবশ অবশ ভাব এবং টিংগিং সেনসেশন হলে।

বিশেষ উপস্বর্গসমূহ
কোমর ব্যাথা স্থায়ী হওয়া, রাতে ব্যাথার তীব্রতা বা ব্যাথার জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া, হাঁচি, কাশি বা সামনে ঝুঁকলে ব্যাথা বৃদ্ধি পাওয়া, প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা, কোমর ব্যাথার সাথে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা প্রস্রাব দুর্গন্ধ হওয়া, শোয়া অবস্থায় বা শোয়া থেকে ওঠার সময় ব্যাথা হওয়া, পায়ের গোড়ালি বা পায়ের পাতা দিয়ে হাঁটতে অসুবিধা হওয়া, অনেকক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে অসুবিধা হলে। ব্যাথার সাথে জ্বর, ঘাম, শীত শীত ভাব বা শরীর কাঁপানো ইত্যাদি দেখা দিলে বা যে কোন অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে দেরী না করে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা 
চিকিৎসার পূর্বে কারণ নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে। 
১। রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা। 
২। প্রস্রাব পরীক্ষা। 
৩। এক্স-রে। 
৪। আলট্রাসনোগ্রাফি। 
৫। এম আর আই।
৬। সি টি স্ক্যান।

এলোপ্যাথিক চিকিৎসা
দীর্ঘদিন বিশ্রাম নিলে ব্যাথা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। তীব্র ব্যাথা কমে গেলেও ওজন তোলা, মোচড়াঁনো (টুইসটিং) পজিশন ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করতে হবে। এন্টিইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ সেবন। গরম সেঁক যেমন গরম প্যাড, গরম পানির বোতল ও গরম পানির গোসল। ব্যায়াম-পেশি নমনীয় ও শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করতে হবে। ফিজিক্যাল থেরাপি-একোয়া থেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি ও ইলেকট্রিকেল স্টিমুলেশন। পেলভিক ট্র্যাকশন। কোমরে বেল্ট (ল্যাম্বার কোরসেট) ব্যবহার করা। ইনজেকশনে নিরাময় পদ্ধতি ইপিডুরাল স্টেরয়েড ইনজেকশন। ফ্যাসেট জয়েন্ট ইনজেকশন। স্যাকরো-আইলিয়াক জয়েন্ট ইনজেকশন। কেমিকেল ডিস্কোলাইসিস। সার্জিকেল চিকিৎসা কনজারভেটিভ বা মেডিকেল চিকিৎসা। তথাপি ভালো না হলে, ব্যাথা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকলে, স্নায়ু সমস্যা দেখা দিলে এবং প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ দ্রুত অস্ত্রপাচার বা সার্জিকেল চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ।

অস্ত্রপাচার করার পরও ব্যাথা সর্ম্পূণ আরোগ্য হয়না। সারাজীবন কমবেশী ব্যাথার ঔষধ খেয়ে যেতে হয়। পাশাপাশি চিকিৎসকের ব্যাবস্থাপত্র মোতাবেক গ্যাসের ঔষধ ও ক্যালসিয়াম সেবন করা অপরিহায্য হয়ে দাড়ায়।

পাক্ষান্তরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় যে কোন রোগই নিমূল করা সম্ভব। কাজেই সমস্যা বেশী মনে হলে নি:দ্বিধায় অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে অতি সহজেই নিশ্চিত আরোগ্য বা সুস্থতা লাভ করা যেতে পারে।

 

 

ডা: আহমদ ইমতিয়াজ
ডি.এইচ.এম.এস (ঢাকা) ফার্মাসিস্ট ও হোমিওপ্যাথ 
বিস্‌মিল্লাহ্‌ হোমিও ফার্মেসী
৬৫ আর. কে. মিশন রোড জজগলি, গোপীবাগ, ঢাকা-১২০৩ 
মোবাইল: ০১৯১৪৪৪০৪৩০ ই-মেইল a_imtiaj@yahoo.com