কিডনি
কিডনি বা বৃক্ক মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনির কাজ হলো প্রস্রাবের সাথে অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়া।

কিডনিতে পাথর
প্রস্রাবে পানি, লবন ও খনিজ পদার্থের সঠিক ভারসাম্য বজায় না থাকাসহ বিভিন্ন কারনে মানুষের কিডনিতে পাথর হতে পারে।

অনেকেই মনে করেন কিডনিতে পাথর হলে অপারেশন করতে হয়। এই ধারণা ঠিক নয়। ছোট অবস্থায় পাথর ধরা পরলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সেজন্য দরকার বেশি পরিমান পানি পান করা। কারণ ছোট আকারের পাথর সাধারণত প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। তারপরও অনেকেই কিডনির পাথরের সমস্যায় ভোগেন।

 

মূলত প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি কিডনিতে পাথর জমায়।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ আলোকপাত করা হলো।

১. প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পানি প্রস্রাবকে পাতলা করে কিডনিতে পাথর গঠনকারী খনিজ পদার্থ জমতে বাধা দেয়।

২. খাবারে লবনের (সোডিয়াম) পরিমান কমালে প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের পরিমান কমানো যায়। প্রক্রিয়াজাত গরুর মাংস, ক্যান্ডি সুপ, নুডুলস এবং লবনাক্ত হালকা খাবার না খাওয়াই ভালো।

৩. পালংশাক, স্ট্রবেরি, গমের ভুসি এবং বাদাম জাতীয় খাবারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অক্সালিক এসিড বা অক্সালেট থাকে। এই জাতীয় খাবার পরিহার করলে প্রস্রাবে অক্সালেটের পরিমান কমে যাবে।

৪. মানবদেহে সর্বদা ভিটামিন-সি অক্সালেটে রুপান্তর হয়ে কিডনিতে পাথর গঠনের হার বাড়িয়ে দেয়। যে ব্যক্তির কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা আছে, অতিরিক্ত ভিটামিন জাতীয় ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

৫. মিষ্টি জাতীয় খাবার ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর গঠনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই যেই সমস্ত লোক কিডনিতে পাথর হয়েছে তাদেরকে অবশ্যই মিষ্টি খাবার পরিহার করতে হবে।

৬. গরুর গোস্ত এবং অন্যান্য প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস বিশেষ করে- মাছ এবং ডিমে প্রচুর পরিমান পিউরিন জমা থাকে। এগুলো পরবর্তীতে ভেঙ্গে ইউরিক এসিডে পরিনত হয়ে প্রস্রাবের মধ্যে জমা হয়। দুগ্ধজাত নয় এমন প্রাণিজ প্রোটিন প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের নি:সরণের মাধ্যমে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুকি সৃষ্টি করে।

৭. গম, শশ্যদানা, যব এবং চালের ভেতরে প্রচুর পরিমানে অদ্রবনীয় তন্তু থাকে যেটা প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কারন এটি অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে কিডনির পরিবর্তে মলের মাধ্যমে নি:সৃত হয়।

৮. ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথরের ক্ষেত্রে, বেশিরভাগ দুগ্ধজাত দ্রব্য যেগুলোতে অক্সালেটের মাত্রা বেশি থাকে যেমন- চা এবং চকলেট জাতীয় খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

কিডনির পাথর একটি জটিল সমস্যা। এ সমস্যা থেকে দূরে থাকতে খাদ্যাভাস পরিবর্তনের টিপসগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে। 
(সংগৃহীত)

তাছাড়া হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় যে কোন রোগই নিমূল করা সম্ভব। কাজেই সমস্যা বেশী মনে হলে গাফলতি না করে নি:দ্বিধায় অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিন। আশা করা যায়, অতি সহজেই নিশ্চিত আরোগ্য বা সুস্থতা লাভ করা যেতে পারে।

 

ডা: আহমদ ইমতিয়াজ
ফার্মাসিস্ট ও হোমিওপ্যাখ
বিস্মিল্লাহ্ হোমিও ফার্মেসী
৬৫, আর. কে. মিশন রোড, জজ গলি, গোপীবাগ, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল: ০১৯১৪৪৪০৪৩০ ই-মেইল: a_imtiaj@yahoo.com

কিডনি ক্যানসার

মানুষের শরীরে দুটো কিডনি থাকে। কিডনি ছাঁকন যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। এগুলো রক্ত ও বিষাক্ত পদার্থকে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিডনি রক্তের রাসায়নিক গঠনের ভারসাম্য রক্ষা করে; পাশাপাশি প্রস্রাব তৈরি করে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে।

কিডনি ক্যানসারকে রেনাল সেল কারসিনোমা বা আরসিসি বলা হয়। এটি ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসার। কিডনি ক্যানসার ইউরিনিফেরাস টিউবলের ইপিথেলিয়াম অথবা রেনাল প্যারেঙ্কিমার ভেতর থেকে শুরু হয়।

কিডনি ক্যানসারের লক্ষণসমূহ

১. প্রস্রাবে রক্ত : প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া আরসিসির অগ্রবর্তী পর্যায়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

২. কোমর ব্যথা : কোমর ব্যথা বা চাপ অনুভব করা কিডনি ক্যানসারের আরেকটি লক্ষণ। এ সময় কিডনি একটু বড় হয়ে যেতে পারে এবং পাশে চাপ দিতে পারে। তাই ব্যথা অনুভব হয়।

৩. অবসন্নতা : অবসন্নতা শরীর দুর্বল হওয়ার জন্যও কাজ করে। তবে দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতা কিডনি ক্যানসারের আরেকটি লক্ষণ। তাই দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতায় ভালো হয় চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে। তাহলে উৎস জানা যাবে।

৪. ওজন কমা : কিডনি বিপাক ও হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া কিডনি ক্যানসারের আরেকটি লক্ষণ।

৫. রক্ত-সংক্রান্ত বিষয় : কিডনি ক্যানসার রক্তস্বল্পতা তৈরি করতে পারে, ইলেকট্রোলাইট ও ক্যালসিয়ামকে ভারসাম্যহীন করে এবং অন্যান্য রক্ত-সংক্রান্ত সমস্যা বাড়ায়।