হার্ট অ্যাটাক !

হৃৎপিন্ড আমাদের দেহে অনবরত রক্ত সরবরাহ করে চলেছে। দেহের কোষগুলো রক্তের মাধ্যমে পুষ্টি পেয়ে সজীব থাকে। করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিন্ডের গায়ে থাকে দুটি ছোট ধমনী। এরাই হৃৎপিন্ডে পুষ্টির যোগান দেয়। কোন কারনে এই করোনারি আর্টারিতে যদি ব্লক সৃষ্টি হয় তাহলে যে এলাকা ঐ আর্টারি বা ধমনীর রক্তের পুষ্টি নিয়ে চলে সে জায়গার হৃৎপেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট এটাক হয়ে থাকে। মেডিক্যাল টার্মে যাকে বলা হয় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

লক্ষণ সমূহ
১। বুকের মাঝে অস্বস্তিকর চাপ অনুভব করা কিংবা বুকে ব্যথা হওয়া। এই ব্যথা ক্রমেই শরীরের নানা অংশে যেমন বা হাতের দিক দিয়ে ছড়িয়ে পড়া।
২। অস্বস্তিকর চাপ কিংবা বুকে ব্যথার কারণে ঘামতে থাকা।
৩। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মূর্ছা যাওয়া।
৪। পেটের উপরের দিকে তুলনামূলক লম্বা সময় ধরে ব্যথা অনুভব করা।

 

রক্তে Cholesterol বেশি থাকার কারনে Heart attack এবং হার্টের নানাধরনের অসুখ হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আমরা কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে ঔষধ ছাড়াই Cholesterol লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখা যাবে।

১. হার্ট এর জন্য ভাল এমন খাবার খানঃ যারা বছরের পর বছর Healthy খাবার খাননি, তারা যদি আজ থেকে শুরু করেন তবুও উপকার পাবেন।
* ভাল স্নেহ জাতীয় খাবার খানঃ Saturated fat যা আপনার জন্য খারাপ, তা পাওয়া যায় Red Meat এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবারে। কম চর্বি যুক্ত মাংস, low fat দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য এবং Monounsaturated fat যুক্ত খাদ্য যেমন অলিভ অয়েল খেতে পারেন।
* Trans Fat খাওয়া বন্ধ করতে হবে- Trans fat শরিরের ভাল Cholesterol কমিয়ে খারাপ Cholesterol বাড়িয়ে দেয়। এটা পাওয়া যায় বাজারে প্যাকেটজাত বিস্কুট, চিপস, কেক ইত্যাদিতে।
* Omega 3 fatty acid যুক্ত খাবার খানঃ Omega 3 আপনার খারাপ Cholesterol কমাবে, ব্লাড প্রেশার কমাবে। মাছ এবং বাদাম এ প্রচুর Omega 3 রয়েছে।
*Soluble Fibre যুক্ত খাবার খান: ফাইবার পাওয়া যাবে ওট, ফল, বিন, ডাল ও সবজিতে।

২. সপ্তাহে বেশিরভাগ দিন exercise করুন এবং শারিরিক পরিশ্রম এর মাত্রা বাড়ানঃ আপনার ডাক্তার এর সাথে কথা বলে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাটুন। দিনে বিরতি দিয়ে দিয়ে ১০ মিনিট করে ৩ বার সময় দিলেও হবে। সময় না পেলে কাজে সাইকেল নিয়ে যান, বাচ্চাদের সাঁতার শেখান, আপনার প্রিয় খেলাটি প্রিয়জনের সাথে আবার খেলা শুরু করেন। বসে না থেকে মোট কথা নড়তে হবে।

৩. সিগারেট কে না বলুনঃ সিগারেট ছাড়ার ২০ মিনিট এর মাঝে Heart Rate ও ব্লাড প্রেশার কমে আসে। ১ বছরের মাঝে আপনার Heart এর অসুখের সম্ভাবনা ৫০% কমে আসবে একজন smoker থেকে।

৪. ওজন কমানঃ গোলগাল মোটাসোটা থাকলে আপনাকে যতই সুন্দর লাগুক না কেন, সামান্য বেশি ওজনও আপনার Cholesterol বাড়ায়। তাই আজ থেকেই healthy খাবার ও exercise শুরু করুন। খাওয়া বন্ধ করলে হবে না। Healthy বিকল্প চিন্তা করে বের করুন। নিজে ভাল থাকুন, বাচ্চাদের ও ভাল রুটিন করুন।

৫. Alcohol কে না বলুনঃ সোসাইটি রক্ষার জন্য হোক কি Party তে। Alcohol কোন কারনেই খাওয়া যাবে না।
যদি এসব নিয়ম মেনে Cholesterol নিয়ন্ত্রনে না আসে তবে এই নিয়মের সাথে ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী মেডিসিন খাবেন। নিজে ভাল থাকুন, আশেপাশে সবাইকে নিয়ে ভাল থাকুন।

হার্ট এটাকের চিকিৎসা যদিও হাসপাতাল ও চিকিৎসক নির্ভর তথাপি প্রাথমিক চিকিৎসা জানা থাকলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

১) যারা একা থাকেন তাদের ঝুকি অনেক বেশি । উপরোক্ত লক্ষণ সমূহ দেখা মাত্র
লম্বা করে শ্বাস নিন। অতঃপর কাশুন। লম্বা সময় নিয়ে দীর্ঘ কাশি দিন। ফলে আপনার ফুসফুসে স্পাটাম/মিউকাস উৎপন্ন হবে।‘শ্বাস নিন এবং কাশুন, এই প্রক্রিয়া প্রতি দুই সেকেণ্ডে একবার করে করতে থাকুন, যতক্ষণ অন্য কেউ আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসছে অথবা যতক্ষণ আপনার হৃদযন্ত্র একা একাই স্বাভাবিকভাবে স্পন্দিত হয়ে উঠবে।
লম্বা করে শ্বাস নেবার ফলে আপনি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাবেন। আর কাশির ফলে আপনার হৃদযন্ত্র সংকোচন-প্রসারণ হবে যার ফলে আপনার হৃদপিণ্ডের ভিতর দিয়ে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
২) প্রথমেই ইমারজেন্সি নাম্বারে ফোন করুন (সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ব্যবহৃত মোবাইলে অ্যাম্বুলেন্স – ফায়ার সার্ভিস – হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ফোন নাম্বার সেভ করে রাখুন আগে থেকেই)।
৩) হাতের কাছে অ্যাসপিরিন থাকলে দ্রুত নিয়ে চুষতে থাকুন এবং গিলে ফেলুন। এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে অ্যাসপিরিন আপনার চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া। সরাসরি নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করা। চিকিৎসকের থেকে নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে রাখাটা বাঞ্চনীয়।
৪) পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন । রোগী মূর্ছা গেলে তাকে শুইয়ে দিন এবং রোগীর উপর চেপে থাকা কাপড় ঢিলা করে দিন। বুকের একটু উপরে হাত রেখে কপালে চাপ দিয়ে চোয়াল উচু করে দিন। 
৫)তারপর কৃত্তিমভাবে হার্ট চালু করানো এবং কৃত্তিম শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কৃত্তিম ভাবে হার্ট চালু করানো প্রক্রিয়াটি অনেকটা এরকম -
ক) প্রথমে রোগীর এক পাশের হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসুন । তারপর বাম হাত বুকের উপরে রেখে ডান হাত পুনরায় বাম হাতের উপর রাখুন। এরপর ডান হাতের আঙ্গুলগুলোকে বা হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে রেখে বুকে চাপ দিন। 
খ) হার্ট পাম্পিং এর সাথে সাথে অবশ্যই শরীরে কৃত্তিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে, কেননা হার্ট যখন থেমে যায় তখন শরীরের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব পড়ে। এজন্য রোগীর উপর ঝুঁকে রোগীর মুখে মুখ লাগিয়ে বাইরে থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করুন।

রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। মনে রাখবেন বাইরেরে সাহায্য না আসা পর্যন্ত প্রক্রিয়াগুলো চালু রাখতে হবে। এতে খারাপ কিছু হওয়ার আশঙ্কা থেকে বাঁচার পাশাপাশি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তাছাড়া হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় হার্ট ব্লক সহ যে কোন রোগই নিমূল করা সম্ভব। কাজেই সমস্যা বেশী মনে হলে গাফলতি না করে নি:দ্বিধায় অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিন। আশা করা যায়, অতি সহজেই নিশ্চিত আরোগ্য বা সুস্থতা লাভ করা যেতে পারে।

 

ডা: আহমদ ইমতিয়াজ
ফার্মাসিস্ট ও হোমিওপ্যাখ
বিস্মিল্লাহ্ হোমিও ফার্মেসী
৬৫, আর. কে. মিশন রোড, জজ গলি, গোপীবাগ, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল: ০১৯১৪৪৪০৪৩০ ই-মেইল: a_imtiaj@yahoo.com