হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় যে কোন রোগই নিমূল করা সম্ভব। কাজেই সমস্যা বেশী মনে হলে গাফলতি না করে নিদ্বিধায় অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিন। আশা করা যায়, অতি সহজেই নিশ্চিত আরোগ্য বা সুস্থতা লাভ করা যেতে পারে।

ডা: আহমদ ইমতিয়াজ

 

হোমিওপ্যাথি প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি।

 

আজ থেকে প্রায় দুশত বছর আগে জার্মান চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেন। homeopathy ল্যাটিন শব্দ homeo-অর্থ সদৃশ এবং pathy অর্থ অসুখ। হোমিওপ্যাথিকে তিনি সংজ্ঞায়িত করেন এভাবেসদৃশ সদৃশকে নিরাময় করে অর্থাৎ যে ঔষধ সুস্থ শরীরে রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম উহা সূক্ষ মাত্রায় খাওয়ালে তা নিরাময় যোগ্য।

 

ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী একজন এলোপ্যাথিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সার্জন এবং মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সকলেই একমত হবেন, তিনিই হলেন সর্বশ্রেষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী, একজন সত্যিকারের চিকিৎসক

 

চিকিৎসা বিজ্ঞানকে বাণিজ্যের পর্যায় থেকে তিনিই সেবার পর্যায়ে ফিরিয়ে এনেছিলেন। ১৭৯০ থেকে ১৮৫৫ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে তিনি হোমিওপ্যাথির মুল সুত্রগুলি আবিষ্কার করেছেন, গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তাদেরকে সংশোধন-পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করেছেননতুন নতুন ঔষধ, ঔষধের মাত্রাতত্ত্ব, ঔষধের শক্তিবৃদ্ধি করণ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন এবং সেই সঙ্গে আবিষ্কার করেছেন জটিল রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি

 

তিনি তাঁর সমস্ত আবিষ্কারকে তিনটি মৌলিক পুস্তকে লিপিবদ্ধ করে গেছেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন সংশোধনীর পর অনেকগুলি এডিশন বের করেছেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকরূপে বিবেচ্য এই বইগুলো হলো-

1.                 Organon of Medicine

2.                 Materia Medica Pura

3.                 Chronic disease

তাছাড়া লেসার রাইটিংস নামে তাঁর আরেকটি মৌলিক গ্রন্থবিদ্যমান আছে যাতে তাঁর ছোট ছোট সমস্ত গবেষণা প্রবদ্ধগুলি সংকলিত হয়েছে।

 

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাই একমাত্র শতভাগ বিজ্ঞানসম্মত আর একারণেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় প্রায় সকল রোগই সম্পূর্ণ নির্মুল হয়ে যায়। পক্ষান্তরে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোন রোগই সম্পূর্ণ নির্মুল হয় না বরং কিছু সময়ের জন্য চাপা পড়ে মাত্র আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ছোট-খাটো রোগ চাপা পড়ে কিছু দিন পর বড় বড় রোগে রূপান্তরিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করে।

 

প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির ঔষধে মারাত্মক ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, পক্ষান্তরে হোমিও ঔষধের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে বরং প্রত্যেকটি ঔষধেরই ক্রিয়াকাল নির্দিষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট ক্রিয়ানাশক রয়েছে  কাজেই সূস্থ দেহ ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য যত জটিল সমস্যাই হোক না কেন একজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।